বুথ আগলে রেখেই পূর্ব বর্ধমানের প্রতিটি বুথে মানুষকে নিয়ে লড়ে দিন। যদি পারেন তাহলে ২ মে আপনারাই লাল আবির খেলবেন। বুধবার ৪টি নির্বাচনী জনসভাতে এই বার্তাই দিয়েছেন যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি। এদিন জামালপুর, আউশগ্রাম, দক্ষিণ বর্ধমান সহ ৩টি বিধানসভাতে ৪টি সভা করেন তিনি।   সব বুথেই সংযুক্তমোর্চার প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে তিনি সংযুক্ত মোর্চার কর্মীদের দাঁতে দাঁত দিয়ে লড়তে বলেন।

আর যদি দুই ফুলের দুষ্কৃতীরা ভোট লুট করতে আসে এমন শিক্ষা দিন যেন সোজা হয়ে হেঁটে না ফিরতে পারে। এদিন সকালে জনসভা ছিল জামালপুর বিধানসভার মশাগ্রাম বাজারে। বিকালে আউশগ্রাম ও গুসকরাতে। সন্ধ্যায় বর্ধমান শহরের নীলপুর বাজারের মিলন সংঘের মাঠে। গুসকরাতে মাঠ উপছে রাস্তার দুধারে মানুষ দাঁড়িয়ে বক্তব্য শোনেন। এই সভাগুলিতে যুবনেত্রী বলেন, ভয় দেখাবেন না। যদি ইট ছোঁড়েন তবে পাটকেলের জন্য তৈরি থাকুন। চোর, তোলাবাজদের হাতে নয় আমাদের ভবিষ্যত আমাদেরই লড়ে ঠিক করতে হবে। রাজ্যে আইনের শাসন নেই। তাই ভোটের দিন ভোট দিতে গিয়ে শাসকের দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন ভোটাররা। যারা এখন খুনের আসামী ৩০২, ৩০৭ ধারা আছে যাদের তাদের গার্ড দিচ্ছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ দুষ্কৃতীদের ভয়ে টেবিলের তলায়, ফাইলের নিচে লুকোয়, সাধারণ মানুষ অসহায়। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, লুট হয়েছে গরিবের টাকা। কাজ নেই, জিনিসের দাম হুহু করে বাড়ছে। তাই শাসকের বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভ।

ওরা মানুষকে ভয় পায় বলেই পেটের খিদে আর কাজের দাবিকে ভুলিয়ে দিতে মানুষকে ভাগ করতে চাইছে দুই ফুল। তার পাশাপাশি এই ভোটে খেলার নাম করে মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এই খেলার পেছনে শাসকের অন্য উদ্দেশ্য আছে। তিনি বলেছেন এবারের ভোট মানে শুধু ৫ বছরের ভবিষ্যত নয়, একটা প্রজন্মকে ৫ বছর পিছিয়ে দেওয়া। বেকারের চাকরি নেই, ঘরে ভাত নেই ফলে আত্মহত্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই মা- বাবার কোল খালি হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, সংযুক্ত মোর্চার জামালপুরের পাঁচ বারের বিধায়কের বিরুদ্ধে বালি চুরি, দুর্নীতির একটা কালির দাগ নেই। অথচ চোরেরা এখানে কখনো তৃণমূল আর কখনো জামা বদলে বিজেপিতে আশ্রয় নিচ্ছে। এই রং বদল মানুষ ভাল চোখে নিচ্ছে না। বালি, কয়লা, লোহা চুরি করছে শাসকের নেতারা। ভোটের সময় কেন তাদের ধরতে সিবিআই, ইডি এত তৎপর? সারা বছর এরা কোথায় থাকে? এটা দুই দলের সেটিং। এখন লড়ায়ের সময়, ১০ বছর ধরে মানুষ ভোট দিতে পারেননি। সেই ভোটাধিকার প্রয়োগের লড়ায়ে সামনের সারিতে থাকবেন এই রাজ্যের মানুষ। যে সরকার কাজ দিতে পারে না, মাথা উঁচু করে বাঁচার ঠিকানা দিতে পারে না সেই পার্টির সাথে আপনি কেন থাকবেন? ১০ বছরে বেকারি, দারিদ্র ছাড়া কি দিয়েছে ওরা? ভোট এবার সংযুক্ত মোর্চাকেই দিন। যে দল আপনার কথা শুনবে, আপনার দাবি নিয়ে লড়াই করবে, আপনার দুঃখ, যন্ত্রণার পাশে থাকবে। লাল ঝান্ডা বেইমানি করে না, ভরসা করুন আমাদের।

source- Ganashakti