রেড ভলান্টিয়ারদের কাজ প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র। বহু মানুষ ও সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এই ভলান্টিয়ারদের প্রতি। শনিবার জামুড়িয়ার আখলপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্র জীবাণুনাশক দিয়ে স্যানিটাইজ করা হয়। রেড ভলান্টিয়ার বাহিনী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক, সেবিকা, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মীদের প্রত্যেককে সংবর্ধনা জানায়। নেতৃত্বে ছিলেন এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ। জামুড়িয়ার বিডিও’র কাছে রেড ভলান্টিয়ারদের টিকাকরণের জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। বিডিও’র উদ্যোগে এদিন রেড ভলান্টিয়ারদের টিকাকরণ করা হয়। জামুড়িয়া পৌর এবং পঞ্চায়েত এলাকা জুড়ে রেড ভলান্টিয়াররা করোনা রোগী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওষুধ, অক্সিজেন, রান্না করা খাবার, রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সহ সব ধরনের সহযোগিতা করছেন রেড ভলান্টিয়াররা।

রানিগঞ্জের কুমারবাজার এলাকায় করোনায় মৃতের বাড়িতে এদিন জীবাণুনাশক স্প্রে করেন রেড ভলান্টিয়াররা। রানিগঞ্জ বল্লভপুরে এলাকায় বাজার, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, মেদিনীপুর রোড এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। দুর্গাপুর পূর্ব ৩নম্বর এলাকায় স্যানিটাইজেশন করা হয়। এদিন রেড ভলান্টিয়ারদের কাজের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন অন্ডালে চনচনি কোলিয়ারির শ্রমিকরা। খনি শ্রমিক উদয় ঘটক ৫ হাজার টাকা এবং অপরেশ মুখার্জি এক হাজার টাকা তুলে দেন পাণ্ডবেশ্বর রেড ভলান্টিয়ার বাহিনীর হাতে। বাঁকুড়ার রেড ভলান্টিয়ারদের পাশে এসে দাঁড়ালেন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ প্রপা দে ও তাঁর স্বামী দীপজ্যোতি গাঙ্গুলি। শনিবার বিচিত্রদূক সংস্থার পক্ষ থেকে এঁরা কলকাতা থেকে সরাসরি বাঁকুড়ায় এসে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুরের রেড ভলান্টিয়ারদের হাতে ৪০টি পিপিই কিট, গ্ল্যাভস, স্যানিটাইজার, বহু এন ৯৫ মাক্স তুলে দিলেন। এদিন বিকালে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে সংযুক্ত প্রগতি সঙ্ঘের মাঠে তাঁরা এই সামগ্রী তুলে দেন। পরে ডাঃ প্রপা দে সঠিকভাবে মাস্ক, পিপিই কিড পরার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। শুক্রবারও রেড ভলান্টিয়ারদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন বাঁকুড়া শহরের মিলনপল্লির বাসিন্দা শিক্ষিকা সর্বানী সিনহা ও তাঁর স্বামী হীরক সিনহা। তাঁদের ছেলে পরিজাত সিনহার জন্মদিনে রেড ভলান্টিয়ারদের কাজের জন্য ডিওয়াইএফআই’র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভয় মুখার্জির হাতে ১০হাজার টাকা তুলে দেন। এদিকে শনিবারও বিষ্ণুপুরের রেড ভলান্টিয়াররা তিনজন কোভিড আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। খালি চিকিৎসাই নয়, কোভিড অবস্থায় লকডাউনে বাঁকুড়া শহরের ১০নং ওয়ার্ডে বসবাসকারী হকার, দিনমজুরদের পাশে দাঁড়ান রেড ভলান্টিয়াররা। শুক্রবার এরকম ৫জনের হাতে চাল, আলু, মসলা ও ৫০০ করে টাকা তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি শনিবার শহরের দোলতলা বাজার ও সংলগ্ন পাড়ায় রেড ভলান্টিয়াররা স্যানিটাইজ করেন।

কালনা শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক মহিলা সাধনা কর্মকার করোনায় আক্রান্ত হন। বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে থাকেন। এই দম্পতির সেই রকম কোনও রোজগার না থাকায় তাঁরা খুবই দুরবস্থার মধ্যে আছেন। খবর পাওয়া মাত্র রেড ভলান্টিয়াররা সেই বাড়িতে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে বৃদ্ধার প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং অক্সিজেন লেভেল মাপার জন্য অক্সিমিটার পৌঁছে দেন। পাশাপাশি কিছু আর্থিক সাহায্যও করা হয়। কিন্তু শুক্রবার মাঝরাতে ফোন আসে যে বৃদ্ধার অবস্থার অবনতি হয়েছে। মাঝরাতেই কালনা শহরের রেড ভলান্টিয়াররা অ্যাম্বুলেন্স ডেকে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি করে দেয়। পূর্বস্থলীর মুকসিমপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কুবাজপুর গ্রামের বাগানপাড়া এলাকায় শাসক দলের এক নেতার বাড়ি থেকে রেড ভলান্টিয়ারদের কাছে ফোন যায়। তাঁদের বাড়ির এক বৃদ্ধার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে, তখনই অক্সিজেন প্রয়োজন। ফোন পেয়েই রেড ভলান্টিয়াররা তাঁর বাড়ি গিয়ে বৃদ্ধাকে অক্সিজেন দেন। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সদর পশ্চিম চক্র এবং এক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের পক্ষ থেকে বর্ধমান সদর ১ রেড ভলান্টিয়ারদের দশ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনের সম্পাদক সমীর দাস অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার জন্য এই টাকা তুলে দেন। ক্যাপশন : শনিবার বাঁকুড়ার রেড ভলান্টিয়ারদের হাতে কাজের বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন ডাঃ প্রপা দে। ছবি: মধুসূদন চ্যাটার্জি পূর্বস্থলীতে অসুস্থ বৃদ্ধাকে অক্সিজেন দিচ্ছেন এক রেড ভলান্টিয়ার। জামুড়িয়া আখলপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন রেড ভলান্টিয়ার বাহিনীর নেত্রী ঐশী ঘোষ।