গতবছর মার্চ মাস থেকে গোটা বিশ্বের মানুষ করোনা আতঙ্কে জর্জরিত। সময় যত এগিয়েছে পাল্লা দিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থেকেছে করোনা সংক্রমণ। সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি করোনা সংক্রমনের জন্য বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের প্রথমদিকে একটার পর একটা করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কার হতে থাকে, মূলত তিনটি করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়। সেই করোনার প্রতিষেধক গুলি মানুষের কাছে আশার আলো নিয়ে আসে। বিভিন্ন দেশেই প্রতিষেধক হাতে পেয়ে তারা তাদের দেশের মানুষকে প্রতিষেধক প্রদান করতে থাকে। প্রথমে ব্রিটেনে করোনা প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ গোটা বিশ্বের মধ্যে শুরু হয়। ১ মে পর্যন্ত ব্রিটেনে এখনো পর্যন্ত তাদের মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ মানুষ করোনার প্রতিষেধক পেয়েছে। গোটা বিশ্বের মধ্যে প্রতিষেধক প্রধানের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে ইজরায়েল তাদের মোট জনসংখ্যার ৫৮.৯ শতাংশ মানুষ করোনা প্রতিষেধক গ্রহণ করেছেন।

তার পরেই রয়েছে চিলি। তাদের মোট জনসংখ্যার ৩৫.২ শতাংশ মানুষ করোনা প্রতিষেধক পেয়েছে। বাহরিনে করোনা প্রতিষেধক পেয়েছে তাদের মোট জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ মানুষ। আমেরিকায় করোনা প্রতিষেধক পেয়েছে তাদের মোট জনসংখ্যার  ৩০.৯ শতাংশ মানুষ। সার্বিয়ায় করোনা প্রতিষেধক পেয়েছে তাদের মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ মানুষ। হাঙ্গেরিতে করোনার প্রতিষেধক পেয়েছে তাদের মোট জনসংখ্যার ২০.২ শতাংশ মানুষ। মরক্কোতে করোনা প্রতিষেধক পেয়েছে তাদের মোট জনসংখ্যার ১১.৫ শতাংশ মানুষ।

গোটা বিশ্বের মানুষ যখন করোনা প্রতিষেধক পেয়ে কিছুটা নিশ্চিন্ত, তখন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিষেধক দেওয়ার কর্মসূচি নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু ১ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভারতবর্ষের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১১.৬ শতাংশ মানুষ করোনা প্রতিষেধক পেয়েছে। এর মধ্যে থেকে স্পষ্ট গোটা দেশের বহু সংখ্যক মানুষ এখনো করোনার প্রতিষেধক থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ১ মে থেকেই ভারত সরকার করোনার প্রতিষেধক কে খোলা বাজারে নিয়ে আসে এবং তা চড়া দামে বাজারে বিক্রি হতে শুরু করেছে। দেশের যখন করোনার পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে সেই সময় সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে মানুষের কাছে প্রতিষেধক পৌঁছে দেওয়ার বদলে বাজারের হাতে তুলে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী যার জন্য এক গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ।