রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার থেকে সারা দেশে ধর্মঘট শুরু করলেন ব্যাঙ্ককর্মী ও অফিসাররা। দু’দিনের ধর্মঘটের প্রথম দিনেই এই প্রতিবাদী আন্দোলন সর্বাত্মক হওয়ায় দেশজুড়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। টাকা তোলা, টাকা জমা, চেক ক্লিয়ারিং, ব্যবসায়িক লেনদেনের মতো সব কাজই বন্ধ হয়ে গিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে। ব্যাঙ্ককর্মীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে এদিনই সারা দেশে যৌথভাবে ‘বেসরকারিকরণ বিরোধী দিবস’ পালন করেছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি এবং সংযুক্ত কিষান মোর্চা। রেল স্টেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত দপ্তরের মতো এক লক্ষেরও বেশি জায়গায় দিনভর একসঙ্গে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিক্রির নীতি বদলানোর জন্য কেন্দ্রের মোদী সরকারকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে এমন বেনজির যৌথ লড়াই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

গত মাসে সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার সময় দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, সাধারণ বিমা ও জীবনবিমা সংস্থা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। মোদী সরকারের এই ঘোষণার সঙ্গেসঙ্গেই দেশজুড়ে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়। কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র রুখতে প্রতিরোধী আন্দোলনেও নেমে পড়েছে আর্থিক ক্ষেত্রের সংগঠনগুলি। টানা দু’দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেয় ব্যাঙ্ককর্মী ও অফিসারদের ৯টি সংগঠনের সর্বোচ্চ সংস্থা ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (ইউএফবিইউ)। ১৬তারিখ ব্যাঙ্ক ধর্মঘট শেষ হওয়ার পরেই ১৭মার্চ ধর্মঘট হবে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলিতে। ১৮মার্চ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে জীবন বিমায়।

এদিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের সর্বাত্মক চেহারা জানিয়ে অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইবক)’র সাধারণ সম্পাদক সৌম্য দত্ত বলেন, ‘‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ হলে শুধু দেশের অর্থনীতিই নয়, বিরাট ক্ষতি হবে কোটি কোটি সাধারণ মানুষেরও। এই ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি। এদিনের ধর্মঘটে অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ১০০শতাংশ। ধর্মঘটের সঙ্গেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ সভা, সমাবেশ, মিছিল, অবস্থান করেছেন ব্যাঙ্ককর্মী ও অফিসাররা। এর পরেও সরকার আমাদের কথা না শুনলে, চলতি কৃষক আন্দোলনের মতো আমরাও অর্নির্দিষ্টকালীন আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবো।’’

এদিকে ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ প্রতিরোধের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সোমবারই যৌথভাবে রাস্তায় নেমেছিলেন কৃষক ও শ্রমিকরা। নয়াদিল্লি রেল স্টেশন সহ এক লক্ষেরও বেশি জায়গায় বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ৫০০’রও বেশি কৃষক সংগঠনের সংযুক্ত কিষান মোর্চার সঙ্গেই এই প্রতিবাদে ছিলেন সিআইটিইউ, আইএনটিইউসি, এইচএমএস, এআইটিইউসি, টিইউসিসি, এসইডবলিউএ, এআইসিসিটিইউ, এলপিএফ এবং ইউটিইউসি’র কর্মী-সমর্থকরা। এদিনের প্রতিবাদ আন্দোলন সর্বাত্মক করায় ব্যাঙ্ককর্মী ও অফিসারদের পাশাপাশি শ্রমিক, কৃষক এবং খেতমজুরদের অভিনন্দন জানিয়েছে সিআইটিইউ।

source- ganashakti