পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভে নামলেন বামফ্রন্ট কর্মীরা। জেলায় জেলায় মিছিল পথসভা সংগঠিত করে তাঁরা দাবি করেছেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজ্যে ধাক্কা খেয়ে মোদী সরকার পেট্রোপণ্যে লোক দেখানো শুল্ক হ্রাস করেছে, এই সামান্য হ্রাসে মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না, পেট্রোপণ্য থেকে কর সংগ্রহের নামে লুট বন্ধ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারকেও শুল্ক কমিয়ে পেট্রোপণ্যের চড়া দাম কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারের লুটের নীতি বন্ধের দাবিতে স্লোগান তুলেছেন তাঁরা। শারদোৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে মূল্যবৃদ্ধির বোঝা। মহামারী, রোজগারহীনতার সমস্যার মধ্যে জিনিসপত্রের চড়া দামে মানুষ বিপন্ন।

পেট্রোপণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সব জিনিসেরই দাম বেড়েছে, পরিবহণ খরচ বেড়েছে বিপুল। এর বিরুদ্ধেই সোমবার থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে পথসভা, বিক্ষোভ কর্মসূচির আহবান জানিয়েছে বামফ্রন্ট। কলকাতায় সিপিআই(এম) কর্মীরা পাড়ায় পাড়ায় মানুষের মধ্যে এই নিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। লিফলেট বিলি করছেন, পথসভা করছেন। সিপিআই(এম)’র কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক কল্লোল মজুমদার সোমবার জানিয়েছেন, কোভিড মহামারীতে মানুষের রোজগার শোচনীয় অবস্থায়। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোপণ্য থেকে শুরু করে সব জিনিসের দাম লাগামহীন তালে বাড়ছে। আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কলকাতা জুড়ে ধারাবাহিক প্রচার আন্দোলন শুরু হয়েছে।

৮ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর মূল্যকবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করার আবেদন রাখা হয়েছে। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারকেও ভ্যাট ও কর ছাড় দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে ট্যাক্সি চালকদের সংগঠন। সোমবার মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গণআন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঘাটাল শহরে সিপিআই(এম) কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পেট্রোল ডিজেল রান্নার গ্যাস থেকে অতিরিক্ত কর আদায় বন্ধের দাবি তোলা হয়। পেট্রোপণ্যের যা দাম তার অর্ধেকই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার লুটে নিচ্ছে বলে জনজীবন বিধস্ত বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। সেইসঙ্গে বিনামূল্যে রেশন ব্যবস্থায় কোপ মারার প্রতিবাদ করেছেন। এই সময়ে কৃষির সার ওষুধ ও বীজের দামও দেড় গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের সঙ্কট বাড়ানো হয়েছে। তারও প্রতিবাদ করেছেন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা। ঘাটাল শহরে বিক্ষোভ মিছিল এবং পথসভা হয়।

পথসভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) নেতা মেঘনাদ ভূঁইয়া, অশোক সাঁতরা প্রমুখ। এদিন বিক্ষোভ মিছিল হয় হুগলীর চণ্ডীতলাতেও। সিপিআই(এম)’র চণ্ডীতলা ১ এরিয়া কমিটির অন্তর্গত হরিপুর ও মুণ্ডলিকা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনন্তরামপুর নিমতলায় লক্ষ্মণপুর হাই স্কুলের কাছ থেকে শুরু হয়ে লক্ষ্মণপুর, কমলাপুর, মামুদপুর গ্রাম ও দুধকোমড়া বাজার হয়ে নিমতলায় শেষ হয়। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন পার্টির চণ্ডীতলা ১ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ ও পার্টিনেতা অজিত ঘোষ। সোমবার সন্ধ্যায় মালদহ শহরের ফোয়ারা মোড়ে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় সিপিআই(এম)’র ইংরেজবাজার শহর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন অনুপম গুণ। ভাষণ দেন সিপিআই(এম)’র জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র, এরিয়া কমিটির সম্পাদক তুষার গোস্বামী, সৌরভ চক্রবর্তী, তুষার সান্যাল, বিশ্বপ্রিয় বিশ্বাস প্রমুখ নেতৃত্ব।