করোনা ভাইরাস অ‍‌তিমারি দ্বিতীয় পর্যায়ে ভয়ঙ্করতম আকার ধারণ করেছে। গোটা দেশে এবং পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই, প্রত্যেকটি পরিবার অবর্ণনীয় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অসংখ্য পরিবার স্বজনদের হারাচ্ছেন। এই অসহায় অবস্থা অনিবার্য ছিল না। মোদী সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকারের অপদার্থতা এই রোগের মোকাবিলাকে কঠিন করে তুলেছে।


রাজ্যে ১৫ দিনের জন্য পুনরায় লকডাউন করা হয়েছে। লকডাউনের সময় মানুষকে রক্ষা করার জন্য আনুষঙ্গিক অবশ্য করণীয় দায়িত্বগুলি সরকারকে পালন করতে হবে। রোগ পরীক্ষা, চিকিৎসার সহায়তা, চিকিৎসার সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ততা অতিক্রম করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিনামূল্যে গণটিকাকরণের জন্য যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। বিশেষত টিকার দ্বিতীয় ডোজের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা এখনই গ্রহণ করতে হবে।


২০২০ সালে লকডাউনের নিষ্ঠুর ও মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা সকলের হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের জন্য আবার লকডাউনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে আর্থিক ও চিকিৎসাগত সহায়তা দানের ঘোষণারও প্রয়োজন ছিল। কর্মহীনতা, জীবিকা ও কর্মস্থান থেকে ছাঁটাই এখন মারাত্মক অবস্থায়; আরও শোচনীয় অবস্থার দিকে তা যাচ্ছে। এ সময়ে কর্মচ্যুত ও কর্মহীনদের মাসে সাড়ে সাত হাজার টাকা এবং দৈনিক পাঁচ কেজি করে চাল-গম দেবার অত্যন্ত জরুরি দাবি পূরণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও এ জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানাতে হবে।


— সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লকডাউনের সময়ে অস্থায়ী ও আংশিক কর্মীদের বেতন বা মজুরি সুনিশ্চিত করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, খুচরো বিক্রেতা ও অন্যান্য অস্থায়ী কাজের কর্মীদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে।


— কোভিড-১৯’এর দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত মানুষদের সহায়তায় বিভিন্ন সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং রেড ভলান্টিয়ার সহ বিভিন্ন উদ্যোগীদের কর্মকাণ্ড জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের কাজের পাশাপাশি এঁদের কাজ বজায় রেখে তাদের সবরকম সহায়তাদানের ব্যবস্থা করতে হবে। বাড়িতে বাড়িতে টেস্টিং, মনিটারিং ও প্রাথমিক চিকিৎসাগত সহায়তা দানের জন্য এঁদের কাজ সম্প্রসারিত করার কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, তা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাজ্যের শাসকদল কাগজে-কলমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ১.৬ কোটি জেনারেল ক্যাটাগরির পরিবারের কর্ত্রীকে মাসে ৫০০টাকা এবং তফসিলী জাতি ও আদিবাসী পরিবারের কর্ত্রীকে মাসে ১০০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে; ১.৫ কোটি পরিবারের প্রতি ঘরে মাসিক রেশন সরবরাহ করা হবে। এখনই রাজ্য সরকারকে এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রের শাসকদলও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ১০০ দিনের কাজ ২০০ দিন করা হবে, ৭৫ লক্ষ কৃষককে বছরে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে, বিধবা ভাতা ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে মাসে ৩০০০ টাকা করা হবে ইত্যাদি অনেকগুলি প্রতিশ্রুতি।
উভয় সরকারকে এই সংকটজনক মুহূর্তে প্রতিশ্রুতিগুলি কার্যকর করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্রমণের মোকাবিলায় সবরকমের সহায়তা করার জন্য জনগণের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে বিপন্ন মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্যও সকলের কাছে আন্তরিক আবেদন জানাই।

সূর্য মিশ্র
সম্পাদক, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
সিপিআই(এম) ১৫মে, ২০২১