অনেকবছর আগে যখন যুদ্ধোন্মাদ আমেরিকার ভিয়েতনামের জনগণ মরণপন সংগ্রাম চালায় তখন ভিয়েতনামের নাম দুনিয়ার সামনে পরিচিতি লাভ করে।যেহেতু বাইরের দুনিয়ার কাছে বহু দশক ধরে ভিয়েতনামের খুব কম তথ্যই পরিবেশিত হয় ফলেবাইরের দেশের সাথে ভিয়েতনামের খুব কমই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।ভিয়েতনামের ইতিহাসে জাতির নিরাপত্তা ও গঠনের জন্য সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংঘর্ষ ছিল খুবই কঠিন ও তাৎপর্যপূর্ণ।
১৮৫৮ সালে ফ্রান্সের সেনাদল ভিয়েতনাম আক্রমন করে এবং সমস্ত প্রকার শক্তি নিয়োগ করে বহু রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে ফ্রান্স ,ভিয়েতনাম জনতার ওপর ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।সভ্যতার বিকাশ,মানুষের মুক্তি,সমতা ও ভ্রাতৃত্বের বদলে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদ কেবলমাত্র দেশের সম্পদ এবং মানুষের শ্রম লুঠ করতেই ব্যস্ত থাকে।ভিয়েতনাম জনতার ওপর দমন পীড়ন বজায় রাখতে তারা যতনা বিদ্যালয় তৈরি করে তার অপেক্ষা বহুগণ বেশি জেলখানা তৈরি করে।প্রয়োজনীয় চালের অপেক্ষা মদের উৎপাদন অনেকগুণ বাড়ানো হয়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের মুখে জাপানি ফ্যাসিবাদ ভিয়েতনামের ওপর আক্রমন করে এবং ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে ভিয়েতনামের জনগণের ওপর দমণ পীড়ন চালাতে থাকে।১৯৪৫ সালে ২২ মিলিয়ন জনতার মধ্যে ২ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয় শুধুমাত্র খাদ্যাভাবের জন্য।সেই সময় ৯৫ শতাংশ মানুষ ছিল নিরক্ষর।এমনই পরিস্থিতিতে ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট পার্টি এবং হো চি মিন এর নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ হয় এবং ১৯৪৫ আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে জাপান ও ফ্রান্সের হাত থেকে দেশের মুক্তি ঘটে।২ রা সেো্টেম্বর ১৯৪৫ দেশে ভিয়েতনামের স্বাধীনতা ঘোষিত হয় এবং ভিয়েতনাম এক গণ প্রজাতান্ত্রিক ভিয়েতনাম গঠন করে।দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন বিপ্লবের মহান নায়ক হো-চি-মিন।খাদ্য-শিক্ষা এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নতুন বিপ্লবী সরকারের ঘোষিত হয় কর্মসূচী।১৯৪৬ থেকে ১৯৫৪ দীর্ঘ নয় বছর ধরে নতুন প্রজাতন্ত্র ভিয়েতনাম কে সংঘর্ষ চালিয়ে যেতে হয় আমেরিকার মদতপুষ্ট ফ্রান্স সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে।ভিয়েতনামী জনগণের “দিয়েন-বিয়েন-ফু” এর ঐতিহাসিক জয় সারা দুনিয়ার মুক্তি সংগ্রামকামী মানুষের কাছে প্রেরণা জোগায়।জেনেভা চুক্তি অনুযায়ী ১৯৫৪ জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক প্রথম সম্মেলনে ভিয়েতনাম স্বাধীনতার স্বীকৃতি পায় এবং আগামী ২ বছরের মধ্যে সাধারন নির্বাচন করার সরকারী ঘোষনা হয়।কিন্তু অকল্পনীয়ভাবে আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদ অন্তর্ঘাত শুরু করে এবং দক্ষিণ ভিয়েতনামে ফ্রান্স সৈন্য পুন:নিয়োগ করে এবং সেখানে একনায়কতন্ত্র পুতুল সরকার গঠন করে।একদিকে মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষাকারী দক্ষিণ ভিয়েতনামী বিপ্লবীদের ওপর দমন পীড়ন অন্যদিকে আকাশপথে উত্তর ভিয়েতনামে ধ্বংসমুখী আক্রমন চালিয়ে যায়।আনেরিকার স্লোগান ছিল” BOMB VIETNAM BACK TO THE STONE AGE “, “খুন করো-আগুন জ্বালাও-ধ্বংস করো”।আমেরিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গোলাবারুদের জন্য যত টাকা খরচ করে তার চারগুণ খরচ করা হয় ভিয়েতনামকে ধ্বংস করার জন্য”।সেই সময় আমেরিকার সৈন্য আশি মিলিয়ন লিটার বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে কৃষিজমিকে নষ্ট করে।তারা ৪৫ মিলিয়ন লিটার অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ ছড়ায় যার মধ্যে ৩৬৬ কেজি ডাইঅক্সিন ছিল।আমরা জানি কেবলমাত্র ৮০ গ্রাম ডাই অক্সিন সমগ্র নিউ ইয়র্ক শহরের জনগনকে হত্যা করতে পারে।এই যুদ্ধে ৩ মিলিয়ন ভিয়েতনামী জনগণের মৃত্যু হয় এবং ৪.৫ মিলিয়ন মানুষ নানাভাবে আক্রান্ত হন।শত শত গ্রামকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়।আজও যুদ্ধের ৪৬ বছর পরও ৩ লক্ষ মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


কিন্তু সমস্ত ধরনের প্রতিবন্ধতাকে কাটিয়ে এবং বর্বর সাম্রাজ্যবাদী আক্রমনকে প্রতিহত করে ভিয়েতনামের জনগণ জয়লাভ করে।আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদ এবং তার পুতুল সরকারের বিরুদ্ধে ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ‘হো-চি-মিন ‘এর “স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য কোনোকিছুই যথেষ্ট নয়” আহ্বানকে সামনে রেখে লাখো লাখো ছাত্র-যুব মহিলা আত্মত্যাগ করে,যা আমেরিকাকে বাধ্য করায় প্যারিস চুক্তি করতে।চুক্তি হয় জানুয়ারীর ১৯৭৩ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনাম, সম্পূর্নভাবে ভিয়েতনাম মুক্তিলাভ করে ১৯৭৫ এ।


এমনিতেই ভিয়েতনাম ছিল অতি দরিদ্র দেশ।সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ে দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক কাঠামো এবং মানুষের বাঁচার পরিবেশ আরও শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছায়।স্বাধীনতার বত্রিশ বছর পরেও যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।সমস্ত ক্ষত কাটিয়ে ওঠে পুনর্গঠন ও মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতির জন্য প্রয়োজন ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ,সম্পদ ও সাহায্যের।তার পরিবর্তে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ভিয়েতনামকে সম্মুখীন হতে হয় অন্যধরনের প্রতিবন্ধকতায়।১৯৯৮ পর্যন্ত আমেরিকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি রাখে।ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সামান্য কয়েকটি সমাজতান্ত্রিক দেশ ছাড়া আর কোনো দেশ থেকে কোনোপ্রকার সাহায্য ভিয়েতনাম পায়নি।পশ্চিম ও তার সম্মিলিত দেশসমূহ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি রাখে।দেশের জাতীয় আয়ের ঘাটতি অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নতির কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।অর্থনৈতিক কেন্দ্রীয়করণ এবং সমষ্টিগত মালিকানায় অর্থ ব্যবহার পরিকল্পনা গঠন করা হয়।কিন্তু অর্থনৈতিক অবস্থার কোনো প্রকার উন্নতি ঘটানো সম্ভব হয়নি।লেবার প্রোডাক্টিভিটি ছিল খুবই কম।কৃষিভিত্তিক দেশ হয়েও খাদ্যে ঘাটতি,নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঘাটতি জীবনযাত্রার মানকে খুবই নীচে নিয়ে যায়।১৯৮০ সালে ইনফ্লেশন রেট গিয়ে পৌঁছায় ৭৭৪.৭ %।শুরু হয় বাস্তব অবস্থা বনাম আকাঙ্খিত লক্ষ্যের দ্বন্দ্ব।


অবশেষে ১৯৯৮ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে ‘কমিউনিস্ট পার্টি অফ্ ভিয়েতনাম” গৃহীত হয় নতুন পরিকল্পনা “ডয় ময়”।দুনিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থার প্রকৃত পর্যালোচনা করে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বাস্তব পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে এই পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়।নতুন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল উপাদান হলো সমাজতান্ত্রিক বাজার ব্যবস্থা–যার মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক অবস্থার বিকাশ ও মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি।ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট পার্টি যদিও মনে করে বাজার ব্যবস্থা কখনোই সমাজের উন্নতির উপায় হতে পারেনা।মুক্তবাজার ব্যবস্থাকে পার্টি বিশ্বাস করেনা।কমিউনিস্ট পার্টি মনে করে বাজার ব্যবস্থা থাকা উচিৎ সরকারী ব্যবস্থার অন্তর্গত।জাতীয় নিরাপত্তা সহ প্রাকৃতিক সম্পদ,রেলওয়ে,জল,বিদ্যুৎ,ব্যাঙ্কিং,পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সরকারের যথেষ্ট ভূমিকা থাকবে।


নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ফলে ভিয়েতনামে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে।প্রতিবছর GDP বৃদ্ধি পাচ্ছে ৭%। খাদ্য উৎপাদনে ১৯৮৭ সালে যেখানে ছিল ১৭.৫ মিলিয়ন টন,২০০৬ সালে সেখানে খাদ্য উৎপাদন হয় ৩৯.৭ মিলিয়ন টন।বর্তমানে ৪৪ মিলিয়ন টন।বর্তমানে ভিয়েতনাম বিশ্বের দ্বিতীয় চাল রপ্তানিকারী দেশ।শিল্পে প্রতিবছর রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। ২৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।


মুক্তদ্বার ব্যবস্থা ও বাজার অর্থনীতি ব্যবস্থায় সামাজিক অসুবিধাগুলি সমাধানতো হয়না বরং বেকারী,নৈতিক অবনতি,মাদক দ্রব্যের প্রসার অথবা মারণ রোগ এইডস এর মতো ভয়ঙ্কর অসামাজিক বিষয়গুলি বাড়তে থাকে।এই সমস্ত বিষয়গুলি বিচার করে কমিউনিস্ট পার্টির ষষ্ঠ কংগ্রেস থেকে সামাজিক উন্নয়নের জন্য (ডয় -ময় নীতিতে)যে মূল উপাদান ঠিক করা হয় তাহল,উন্নয়নের মূল লক্ষ্যে থাকবে ভিয়েতনামের জনগন,অর্থনৈতিক বিকাশ সাহায্য করবে সামাজিক নীতিগুলি কার্যকরি করতে এবং অন্যদিকে সামাজিক নীতির কার্যকরীর মাধ্যমে ঘটবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশ।সামাজিক নীতির মূল লক্ষ্য দারিদ্র দূরীকরণ,শিক্ষার ট্রেনিং ব্যবস্থা,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন।


জাতীয় বাজেটের ২৫% রাখা হচ্ছে সামাজিক কর্মসূচিতে। ‘ডয়-ময়’ পরিকল্পনা কার্যকরী করার পর দারিদ্র দূরীকরণের ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম দারুন সফলতা অর্জন করেছে।আন্তর্জাতিক স্তরে ১৯৮৬ সালে ভিয়েতনামের যেখানে দারিদ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ সেখানে ২০০৬ সালে কমে দাড়ায় মাত্র ১৯ শতাংশ।মনে রাখা দরকার ৯৬.৪৬ মিলিয়ন জনগনের ৭৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করে গ্রামাঞ্চলে ।সঠিক পরিকল্পনা ব্যতীত প্রতিবছর তিন লক্ষ দশ হাজারের বেশি মানুষকে দারিদ্রসীমার ওপরে নিয়ে আসা সম্ভব নয়।সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর ১৪,৮০০ বাড়ি তৈরি করা হয় প্রান্তিক মানুষের জন্য।বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৯৭.৯৬ শতাংশ।দেশের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স(H.D.I) ১৯৯১ এ ০.৪৯৮ থেকে বেড়ে ২০০৬ এ ০.৮১০এবং ২০১৯ এ ০.৭০৪।ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট পার্টির দশম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এপ্রিল ২০০৬।কংগ্রেস থেকে যে পরিকল্পনা গ্রহন করা হয় যার মূল লক্ষ্য ২০২০-র মধ্যে শিল্পন্নোত দেশে পরিণত করা।যা বাস্তবায়িত করতে সাক্ষম হয়েছে ভিয়েতনাম।


সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে মানুষের জন্য মানুষের দ্বারা পরিচালিত হয় ভিয়েতনাম সরকার।ন্যাশানাল অ্যাসেম্বলি জাতীয় আইন প্রনয়নের মূল কেন্দ্র।প্রতি পাঁচ বছর অন্তর গোপন ব্যলটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকে।কমিউনিস্ট পার্টিই দেশের প্রধান পার্টি।পার্টির সাথে জনগনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।জাতীয়স্তরে ৩০০-র বেশি গনসংগঠন এবং স্থানীয়স্তরে ১০০০০ র বেশি গনসংগঠন প্রতিনিয়ত সাধারন মানুষের সাথে সম্পর্ক রেখে কাজ করে চলেছে।বর্তমানে ১৪.৯% বৌদ্ধ ধর্মাম্বলী,৭.৯% ক্যাথলিক,২.৩ মিলিয়ন হোওয়া-হো,৭২ হাজারের বেশি ইসলাম ধর্মাম্বলী মানুষ সম্প্রীতি বজায় রেখে চলেছে।


নিউলিবারেল ভূমণ্ডলীকরণ এবং ডাবলু.টি.ও-র নীতি ভিয়েতনামের কাছে এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দিয়েছে।অসম বাণিজ্য নীতির ফলে ভিয়েতনামের শ্রমিক-কৃষক বাস্তব সংকটের সম্মুখীন হয়েছে।এতদসত্বে ও কোভিড ১৯ মোকাবেলায় সারা বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভূতপূর্ব আগ্রগাতির সাথে সাথে, চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরী, আমেরিকা সহ অন্যান্য দেশের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার নজির সৃষ্টি করেছে ভিয়েতনাম। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখে, আজ স্বাভাবিক ছন্দে ভিয়েত নাম। আমরা বিশ্বাস করি ভিয়েতনাম মানুষের নিরন্তর সংঘর্ষ দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে সমস্ত সংকটকে কাটিয়ে উঠে দেশপ্রেম আর সমাজতন্ত্রের প্রতি প্রত্যয়, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ভিয়েত নামের মানুষ বিশ্বাস করে “সমাজতন্ত্রই ভবিষৎ _Socialism is the Future “.